ঈদ পরবর্তী লকডাউনে সরকারি চাকরীজীবীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহার পর দেশে শুরু হতে যাচ্ছে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন।সরকারি চাকুরেদের মধ্যে যারা ঈদের পর শুরু হওয়া লকডাউনে লম্বা ছুটি কাটানোর চিন্তা করছেন, তাদের জন্য কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঈদ-পরবর্তী কঠোর লকডাউনের সময় কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকলে ধরা পড়তে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।ঈদ পরবর্তী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা যাতে তাদের কর্মস্থলে থাকেন, তা নিশ্চিত করতে গত বুধবার (১৪ জুলাই) সচিবদের অভ্যন্তরীণভাবে কঠোর নির্দেশনা পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে হয়ে যাওয়া গত তিনটি ঈদেও একই ধরনের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু অনেক কর্মচারী এই নির্দেশনা মানেননি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আগেরবারের বিষয়গুলো আমলে নিয়ে এবার ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে।

সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের বরাবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত…সরকারি কর্মচারীগণকে নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’

সচিবদের প্রতি আরো বলা হয়েছে, ‘বিধি-নিষেধ আরোপকালীন অধীন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সকল দপ্তরের সরকারি কর্মচারীকে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাভাবে পালন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হলো।’

এই নির্দেশের ব্যত্যয় যাতে না হয়, সে বাপারেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে সচিবদের। সূত্র জানায়, গত কয়েকটি ঈদে এ ধরনের নির্দেশনা থাকলেও অনেকে এর তোয়াক্কা করেননি। এবার নির্দেশনা অমান্য করে কর্মস্থল যাতে কেউ না ছাড়েন, সে জন্য বিশেষ কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

দেশব্যাপী লকডাউনের সময় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা না হলেও কার্যত সাধারণ ছুটির আদলেই চলছে দেশ। কিছু সরকারি অফিসে প্রচণ্ড ব্যস্ততা থাকলেও বেশির ভাগ সরকারি অফিসেই তেমন কাজ নেই।

এ অবস্থায় কর্মীদের অনেকে কোনো না কোনোভাবে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেছেন। এবার ঈদকেন্দ্রিক ছুটির পরপরই দেশব্যাপী কাজহীন অবস্থায় থাকা সরকারি কর্মচারীদের করোনাসংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্ত করার চিন্তা চলছে। ঈদের আগে এ বিষয়ে লিখিত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হবে না। ঈদের পর অফিস আদেশ জারি করে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

সচিবদের কাছে পাঠানো চিঠিতে কৌশলে সেটি বলা হয়েছে—‘সরকারি কর্মচারীদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাভাবে পালন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা করা হলো।’ এখানে অর্পিত কী দায়িত্ব তা উল্লেখ করা হয়নি। ঈদ-পরবর্তী সময়ে স্ব স্ব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে সেগুলো জানিয়ে দেওয়া হবে। আর সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যাদের পাওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে সরকারি আদেশ অমান্যের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

জানা গেছে, কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উচ্চ পর্যায় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা দুটি বিভাগের সচিবকে মৌখিকভাবে বলে রাখা হয়েছে যে, সারা দেশে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের করোনাভাইরাস সংক্রমণ সংক্রান্ত তথ্য জনসাধারণের কাছে পৌঁছে মানুষকে সচেতন করার কাজ করতে হবে। এ জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল চাকুরেদের মাধ্যমে স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ আগেও আমরা নিয়েছি। প্রয়োজনে এবারও নেওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর থেকে দেশের সরকারি সব হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ব্যাপক চাপ থাকলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে থাকা অনেক স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে তেমন কাজ নেই। ঈদ-পরবর্তী লকডাউনের সময় তাদের স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রের আশপাশের গ্রামে করোনা উপসর্গে আক্রান্তদের জ্বর মাপা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার কাজে লাগানোর পরিকল্পনা আছে। এ ছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারা দেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মচারীদেরও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত করার চিন্তার কথা জানা গেছে। এভাবে দেশব্যাপী সরকারি অফিসের মধ্যে যেগুলো লকডাউনে বন্ধ থাকবে, সেসব অফিসের কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে করোনা সচেতনতায় নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। যাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পাওয়া যাবে না, তারাই ধরা পড়বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *