ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেও একজন সফল ‘ফ্রিল্যান্সার’ রেজওয়ান

একজন সফল ফ্রিল্যান্সার তরুণ রেজওয়ান করিম। দীর্ধদিন ধরেই কাজ করছেন বিশ্বের নামিদামি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইটে। বর্তমানে

ফিনল্যান্ডের একটি স্টার্টআপ কোম্পানিতে ডাটা অ্যানালিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বিডি২৪লাইভ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন রেজওয়ান করিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নাঈম হাসান—

প্রথমেই আপনার সম্পর্কে জানতে চাই। নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন-

আমার জন্ম এবং বেড়ে উঠা ঢাকার কাফরুলে। বাবা বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে কর্মরত রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। মা একজন গৃহিণী।

ছোট বোন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে পড়াশোনা করছেন। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক কমপ্লিট করেছি গাজীপুর রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে।

এরপর অ্যারোনটিকাল ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ থেকে অ্যারোনটিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করি ২০১৫ সালে। আমার ইচ্ছা ছিল, অ্যারোনটিকাল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। সেজন্যই এই বিষয়ের উপরে পড়ালেখা করেছিলাম। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি, তাই হতেও পারিনি।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের শুরুটা কীভাবে?

পড়াশোনা শেষে ২০১৬ সালে ইন্টার্নশিপ করলাম, তারপরও চাকরি পাচ্ছিলাম না। তখন চিন্তা করি, চাকরির জন্য অপেক্ষা করবো না। নতুন কিছু শেখা শুরু করবো। আমার যেহেতু ছোটবেলা থেকেই টেকনলোজিতে ঝোঁক ছিল তাই ঘাটাঘাটি শুরু করলাম এটাকে কিভাবে প্রফেশনাল কাজে ব্যবহার করা যায়।

ইন্টারনেটে দফায় দফায় রিসার্চ করার পর ২০১৬ সালে সিদ্ধান্ত নিলাম ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার। তখন আমার জন্য সবচেয়ে সহজ যে ক্যাটাগরি ছিল তা হচ্ছে ওয়েব রিসার্চ।

আমি ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য ওয়েব রিসার্চকে নির্বাচন করলাম। ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখে অ্যাকাউন্ট তৈরি করলাম আপওয়ার্কে। আমার প্রথম কাজটা ছিলো ৭৫ ডলারের। কাজটি পেয়েছিলাম, প্রথম তিন মাস কাজে বিড করার পর। সে প্রজেক্ট সম্পূর্ণ করতে আমি সাতদিন সময় নিয়ে ছিলাম। এভাবে ধারাবাহিক ভাবে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কাজ করতে থাকলাম।

আপনার কাজের সম্পর্কে বলুন-

আমি ডেটা এনালাইসিস নিয়ে কাজ করি। প্রতি মুহূর্তে দুনিয়াতে যা ঘটছে সবই ডেটা বা তথ্য। আপাতদৃষ্টিতে, এগুলোকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সম্পর্কহীন কাজ মনে হলেও, এই ডেটাগুলোই কিন্তু আমাদের চারপাশের পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের প্রভাবিত করছে। ঠিক এরকম অগোছালো, অর্থবিহীন, দুর্বোধ্য ডেটাগুলোকে সমন্বয় করে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য, প্যাটার্ন, পরিসংখ্যান ইত্যাদি ব্যবহার উপযোগী কন্টেন্ট বের করার পদ্ধতি নিয়েই আমি কাজ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *