সালিসে ডেকে বিয়ে করলেন চেয়ারম্যান, তালাক দিল কিশোরী

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় প্রেমঘটিত এক সালিসে দেখেই পছন্দ হওয়ায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে তাৎক্ষণিক বিয়ে করেন

কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। তাকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়ি ফিরে গেছে ওই কিশোরী। ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে কিশোরীকে বিয়ে করেছিলেন চেয়ারম্যান শাহিন।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের সঙ্গে তার স্ত্রীর তালাক সম্পন্ন হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কিশোরীর বাবা। জানা গেছে, প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ের কথা

বলে ওই কিশোরীকে চেয়ারম্যান নিজেই বিয়ে করায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় ইউনিয়নজুড়ে। এ ছাড়া ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়। যে কারণে তালাকের সিদ্ধান্ত হয়।

যে কাজীর মাধ্যমে বিয়ে হয়েছিল গতকাল শনিবার তার মাধ্যমেই চেয়ারম্যান শাহিন ও ওই কিশোরীর তালাক সম্পন্ন হয়। এ ব্যাপারে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার জানান, ওই কিশোরী তাকে স্বামী হিসেবে মেনে না নেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে মেয়েটিকে তার বাবার সঙ্গে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, গত শুক্রবার ওই কিশোরীকে বিয়ে করেন কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার।

জানা গেছে, কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়নপাশা গ্রামের রমজান নামের এক যুবকের সঙ্গে চুনারপুল এলাকার বাসিন্দা নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

কিন্তু তা মেনে নিতে পারেননি কিশোরীর বাবা। তিনি বিয়ষটি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের কাছে নালিশ করেন। পরে শাহিন হাওলাদার চুনারপুল বাজারে গতকাল শুক্রবার সালিসের আয়োজন করেন। সেখানে রমজান ও কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সালিসে কিশোরীকে দেখে চেয়ারম্যান শাহিন নিজেই বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিশোরীর বাবা সম্মতি দেওয়ায় তাৎক্ষণিক বিয়ের অনুষ্ঠান হয়।

অপরদিকে, প্রেমিকাকে চেয়ারম্যান বিয়ে করায় ক্ষোভে-কষ্টে প্রেমিক রমজান বিষপান করেন। পরে তাকে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই ভর্তি আছেন।

এর আগে বিয়ের ব্যাপারে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেয়েটিকে দেখে আমার পছন্দ হওয়ায় তাকে বিয়ে করেছি। এ ছাড়া আমার বিয়ে প্রয়োজন ছিল।’ কনের বয়স কম, বাল্যবিয়ে করেছেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে চেয়ারম্যান বলেছিলেন, ‘আপনার ভাবির জন্ম তারিখ ২১ এপ্রিল ২০০৩। তিনি নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। ৩ বছর হয় লেখাপড়া বাদ দিয়েছেন। বিয়ের বিষয়টি নিয়ে তিনি লজ্জিত নন বরং আনন্দিত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.