আইটিসহ বাংলাদেশের অর্থনীতির নানা খাত মার্কিনীদের নজরে

বাংলাদেশ সম্পর্কে সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে মার্কিনীদের আগ্রহ বাড়ছেই। তারা এখন বাংলাদেশের অর্থনীতিন নানা খাতের অগ্রগতির খবরও রাখছেন।

প্রযুক্তি দুনিয়ার রাজধানী সিলিকল ভ্যালিতে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট রোড-শোতে আসা ব্যবসায়ী এবং সান্তা ক্লারা শহরের মেয়রের কথায়ও তা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে তারা বলেছেন, যৌথ উদ্যোগ বা একক বিনিয়োগ আনতে হলে বাংলাদেশ সরকার এবং বেসরকারি খাতের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

সান্তা ক্লারার হায়াত রিজেন্সিতে অনুষ্ঠিত রোড-শোর থিম ছিলো ‘রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার: পটেনশিয়াল ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা শহরের মেয়র লিসা এম গিলমোর বাংলাদেশে আর্থসামজিক উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রসংশা করেন। তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি খাতেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ আর যুক্তরাষ্ট্রে এই রোড-শো সব খাতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

এসময় তিনি বংগবন্ধুর অবদান স্মরণ করেন এবং বর্তমানে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানেরও প্রসংশা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে চারটি রোডশোর শেষ পর্বের এই বিনিয়োগ সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আইটি খাতে বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়। এদেশে শ্রমঘন গার্মেন্টস শিল্পের পর এই খাত উঠে আসতে পারে। রোড-শো’তে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশের বাজারেও আইটি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। আর রফতানিতে এ খাতের সম্ভাবনা দেখে অন্য অনেক খাতের মতো এ খাতেও বিনিয়োগবান্ধর পরিবেশ তৈরি করেছে সরকার। আইটি খাতে বিনিয়োগ করলে ১০ বছরের কর অব্যাহতি সুবিধা আছে। তাই এ খাত এখন সৃষ্টিশীল বিনিয়োগের অপেক্ষায় আছে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এর নেতৃত্ব দিচ্ছে বেসরকারি খাত। বিভিন্ন উৎপাদনশীল কোম্পানি, ব্যাংক, বীমা, মিডিয়া এবং বিদ্যুৎ খাতেও নেতৃত্ব দিচ্ছে বেসরকারি খাত। অর্থমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাসীদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসা উচিত। প্রবাসীদের বিনিয়োগে সব ধরনের জটিলতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিডার প্রধান সিরাজুল ইসলাম বলেন, আইটিভিত্তিক স্টার্টআপকে সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এবারের বাজেটেও বিভিন্ন সহায়তার কথা বলা হয়েছে। ২৯টি হাইটেক পার্কের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব পার্কে ইউটিলিটি সুবিধা সবচেয়ে বেশি।

রোড-শোর আয়োজক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিবেশ বিনিয়োগবান্ধব। বিশেষ করে রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা, মুদ্রার বিনিময় হার, যুব শ্রমশক্তি এবং ইকো সিস্টেম সবকিছুই বিনিয়োগ উপযোগী। তিনি বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং স্টার্টআপ বিজনেসের সম্ভাবনা বাড়ছে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহক দ্রুত গতিতে বেড়েছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগের এখনই উপযুক্ত সময়। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাপক বিনিয়োগ করছে বাংলাদেশ।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষও সভায় বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *