অবশেষে ১ সেপ্টেম্বর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে…

দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সাধারণ ছুটি এখন পর্যন্ত ২২ দাফায় বেড়েছে। এ ছুটি আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলমান থাকবে। এদিকে, টিকা দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির যে নির্দেশনা ছিল সেটিও বেশ জোড়ালোভাবে চলছে।

এছাড়া ১০ আগস্টের পর বিধিনিষেধ শিথিল করে ১১ আগস্ট থেকে সবকিছুই খুলছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ১ সেপ্টম্বর থেকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে কি-না বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার অন্যতম শর্ত ছিলো করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে আসা। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে অবনতি হচ্ছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে। সরকারি বিধিনিষেধের মেয়াদ চলমান থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে তা এখন নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপকহারে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যদি আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম নিশ্চিত করা গেলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আরেকটি পক্ষ বলছে, এ সময়ের মধ্যে দেশের সব শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে না। এছাড়া দেশে করোনা সংক্রমণের হারও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া ঠিক হবে না। এর আগেও একাধিকবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ জানানো হলেও এ সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দিয়েই ক্যাম্পাস খোলার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, টিকা দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্যাম্পাসে ফেরানোর চেষ্টা করছি। করোনার মধ্যে অনলাইনে পাঠদান পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও অনলাইন পাঠদান পদ্ধতি চালু হয়েছে। তাই অনলাইন শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

গত ০২ আগস্টের (সোমবার) হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭২ হাজার ২৫৭ জন এবং চিকিৎসাশিক্ষার ৩ হাজার ৬৬২ জন শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে এখনো অধিকাংশ শিক্ষার্থীই টিকার আওতার বাইরে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর প্রায় ২৯ লাখ শিক্ষার্থী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থীর টিকা দেওয়া এখনো শুরু হয়নি।

ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস শুরুর বিষয়টি এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেল। ইউজিসি সদস্য দিল আফরোজা বেগম গণমাধ্যমকে বলেছেন, টিকার জন্য তাঁরা শিক্ষার্থীদের তালিকা পাঠাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা টিকাও নিচ্ছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে, সে বিষয়ে এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাননি।

করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই ছুটি আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলো, আবাসিক হলে থাকা শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার পর শ্রেণিকক্ষে ক্লাস শুরু করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ (কলেজগুলো বাদে) থেকে গত ৩১ মে পর্যন্ত মোট এক লাখের বেশি আবাসিক শিক্ষার্থীর তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসে দেওয়া হয়। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষার্থী প্রায় তিন লাখ।

এদিকে, ১৮ বছর এবং এর বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণ ও অন্যদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করা হলো।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর আগামী ৩১ আগস্ট এ ছুটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও পাঁচদিন বাড়িয়ে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত করেছে সরকার। তবে পরদিন ১১ আগস্ট থেকে বিধিনিষেধে কিছু পরিবর্তন আসবে। সরকারের এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে জানানো হয়, ১০ আগস্টের পর বিধিনিষেধ অনেকটাই শিথিল হয়ে যাবে। ১১ আগস্ট থেকে সবকিছুই খোলা থাকবে। তবে তা সীমিত পরিসরে।

সেই হিসাবে ১১ আগস্ট থেকে গণপরিবহণ, দোকানপাট, শপিংমল, সরকারি-বেসরকারি অফিস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে খুলবে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধই থাকছে। সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে এ দফার ছুটি শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে কিনা এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত নতুন কোন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *