বিয়ে-সম্পর্ক নিয়ে সিরিয়াস ছিলেন না নায়িকা পরীমনি

কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনে ‘বিতর্কিত’ নায়িকা পরীমনি বরাবরই উদাসীন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ডুবে ছিলেন বিলাসিতা আর উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে। প্রেম, বিয়ের বিষয়েও লোকলজ্জা গায়ে মাখেননি এই নায়িকা।

পরীমনি বার বার মনের তরী ভাসিয়েছেন প্রেমের জোয়ারে। পাল উড়িয়েছেন রঙিন হাওয়ায়। ঢেউ তুলেছেন মন দেওয়া নেওয়ার জল-তরঙ্গে।

সেইসব প্রেমিক, স্বামীদের নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছেন, তাদের রোম্যান্স নজর কেড়েছে ভক্তদের। আবার জোয়ারের বিপরীতে ভাটায় গিয়ে সম্পর্ক ভাঙতেও সময় নেননি তিনি।

পরীমনির আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। সিনেমায় এসে তিনি পরীমনি নামে পরিচিতি পান। ১৯৯২ সালে নড়াইলে জন্ম তার।

পরীর বাবা মনিরুল ইসলাম ও মা সালমা সুলতানা। মাত্র তিন বছর বয়সে মা মারা যাওয়ার পর নানাবাড়ি পিরোজপুরে বড় হন পরীমনি। সেখানে নানা শামসুল হক গাজীর তত্ত্বাবধানে শৈশব কাটে তার।

পিরোজপুরে থাকতেই বিয়ে হয় পরীমনির। পরীর প্রথম স্বামীর নাম ফেরদৌস কবীর সৌরভ। যিনি একজন ফুটবলার ছিলেন।

২০১২ সালের এপ্রিল মাসে বিয়ে হয় তাদের। সৌরভ ভালো ফুটবল খেলায় ডাক পান ঢাকায়। তখন স্ত্রী পরীমনিকে নিয়ে ঢাকার বনশ্রীতে বাসা ভাড়া নেন। এরপর পরীমনিকে মিরপুরের একটি কলেজে ভর্তি করে দেন।

পরবর্তীতে কলেজে পড়া অবস্থায় মিডিয়ায় জড়িত এক ব্যক্তির নজরে পড়েন পরীমনি। সেই ব্যক্তি মডেল ও অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখান পরীকে।

তখন থেকেই শামসুন্নাহার স্মৃতি নাম পাল্টে পরীমনি হয়ে যান। শুরু করেন উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন। এই কারণে স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব শুরু হয় এবং ২০১৫ সালে সৌরভ ঢাকা ছেড়ে গ্রামে ফিরে যান।

পরীমনির বিয়ের এই বিয়ের খবর ২০১৬ সালের দিকে প্রকাশ হয়। সেসময় সৌরভের সঙ্গে তার বেশ কিছু ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। একইসঙ্গে তাদের বিয়ের কাবিননামার ছবিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এরপর ২০১৬ সাল থেকে সাংবাদিক তামিম হাসানের সঙ্গে নতুন প্রেমে মজেন পরীমনি। টানা তিন বছর প্রেমের পর ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জমকালো আয়োজনে

তামিমের সঙ্গে বাগদান সারেন পরীমনি। এরপর পরবর্তী বছরের ভালোবাসা দিবসে বিয়ে করবেন বলেও ঘোষণা দেন। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়।

মন ভেঙেছে কিন্তু থেমে থাকেননি পরীমনি। আরেক নাটকীয় বিয়ে করে আলোচনার জন্ম দিলেন তিনি। ২০২০ সালের ১০ মার্চ

নাট্যকর্মী ও সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান রনিকে বিয়ে করেন তিন টাকার কাবিনে। সেই সংসার ভাঙে মাত্র তিন মাসেই। এই বিয়েতেও নাকি সিরিয়াস ছিলেন না পরীমনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *