অ্যাসাইনমেন্ট লেখার কালি নিয়ে বিভ্রান্তি কাটলো

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত কালি নিয়ে বিভ্রান্তি কেটেছে। শিক্ষার্থীরা যে রঙয়ের কালি ব্যবহার করেই অ্যাসাইনমেন্ট করে জমা দিয়েছে সেগুলো সেভাবেই মূল্যায়ন করতে হবে শিক্ষকদের। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকার আঞ্চলিক কার্যলয় সে বিভ্রান্তি দূর করেছে।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি নিয়ে কিছু ভুয়া নির্দেশনা ফেসবুকে ভাইরাল হয়। যাতে বলা ছিল কালো কালি ছাড়া অন্যকোন কালিতে শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে পারবেন না।

কিন্তু অ্যাসাইনমেন্ট লেখার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের কালি ব্যবহার নিয়ে কোন বাধ্যবাধকতা নেই বলে স্পষ্ট করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা আঞ্চলিক অফিস। যদিও শিক্ষকদের অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের সময় সবল অংশ কালো কালিতে ও দুর্বল অংশ লাল কালিতের চিহ্নিত করতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকার আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত স্পষ্টিকরণ চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের চলমান অ্যাসাইনমেন্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তুত ও মূল্যায়ন করতে হবে।

শিক্ষকরা অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের সময় দুর্বল অংশ লাল কালিতে ও সবল অংশ কলো কালিতে চিহ্নিত করবেন। পরীক্ষার্থীরা যে রঙয়ের কালি ব্যবহার করে যেভাবে অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করে জমা দিয়েছে সেগুলো সেভাবেই মূল্যায়ন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

এর আগে গত ৯ আগস্ট চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নে শিক্ষকদের জন্য নির্দেশিকা প্রকাশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে বলা হয়েছিল, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য ও সমতা আনতে শিক্ষকদের

প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্টের জন্য প্রণীত মূল্যায়ন নির্দেশনা বা রুবিক্স অনুসরণ করতে হবে। রুবিক্স অনুসরণ করে শিক্ষার্থীরা যাতে অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করতে পারে সে বিষয়েও নির্দেশনা দিতে হবে। অ্যাসাইনমেন্টের বিষয়ে প্রকৃতি, চাহিদা, পরিসর, ধাপ, চিন্তার ব্যপকতা ও শিক্ষার্থীর লেখার মধ্যে সৃজনশীলতা ও

মৌলিক বিষয় যথাযথভাবে মূল্যায়নের জন্য প্রতিটি বিষয়ের প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্টর জন্য ভিন্নভিন্ন রুবিক্স সংযোজন করা হয়েছে। রুবিক্সে প্রতিটি মূল্যায়নের জন্য পারদর্শিতার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি নির্দেশকের জন্য আলাদা আলাদা নম্বর দিয়ে মোট প্রাপ্ত নম্বর নির্ধারণ করতে হবে।

অধিদপ্তর আরও বলেছিল, অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোন প্রকার অবহেলা, অতিমূল্যায়ন বা অমূল্যায়ন করা যাবে না। অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ভিতরে সবল অংশে কালো কালি ও দুর্বল অংশে লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করতে হবে।

মুখস্ত করে বা হুবুহু পাঠ্যপুস্তক থেকে লিখে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি না করে পাঠ্যপুস্তকের অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা কাজে লাগিয়ে শিক্ষার চিন্তা, কল্পনাশক্তি, অনুধাবনের ক্ষমতা, স্বকীয়তা, সৃজনশীল ও নান্দনিক উপায়ে উপস্থাপন করার দক্ষতাকেই মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে শিক্ষকদের বলেছে শিক্ষা অধিদপ্তর।

যদিও এ নির্দেশনা জারির পর কিছু শিক্ষক নিজ নিজ ফেসবুকে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে মনগড়া নির্দেশনা প্রচার করতে থাকেন।

একাধিক শিক্ষকের ফেসবুকে এ নির্দেশনা বেশ কিছুদিন ঘুরতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃষ্টি হয় বিভ্রান্তি। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি পরিস্কার করে আদেশ জারি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *