আরব আমিরাত ,সৌদিসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয় চাঁদপুরের ইলিশের ডিম!

চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের মৌসুমে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ইলিশ আমদানি হয়। বরফ ও মাছের চাপ এবং পরিবহনের সময়ও কিছু ইলিশ নরম হয় ও পচে যায়।

আর একশ্রেণির ব্যবসায়ী এসব ইলিশ অল্প দামে কিনে লবণ দিয়ে জেলেদের নৌকায় সংরক্ষণ করে রাখেন বেশ কয়েক দিন। উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন জেলায় এই মাছের চাহিদা ভালো থাকায় বেশ লাভবানও হচ্ছেন তারা।

বর্তমানে মাছঘাটে শুরু হয়েছে নরম ও পচা ইলিশ লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণকাজ। লবণ বা নোনা ইলিশ বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা আয় করছেন কোটি কোটি টাকা।

ইলিশের মৌসুম না থাকা এবং নদীতে ইলিশ না পাওয়া গেলে তখন ব্যবসায়ীরা এগুলো বিক্রি করেন।এদিকে বাংলাদেশের নোনা ইলিশের পাশাপাশি ইলিশের ডিমের চাহিদা রয়েছে বিদেশে। নরম ও পচে যাওয়া ইলিশের ডিম প্লাস্টিকের বক্সে করে সংরক্ষণ করা হয়।

বেশ কয়েক বছর ধরে চাঁদপুরের ইলিশের ডিম অনলাইনের মাধ্যমে বিদেশে রফতানি হচ্ছে। চাঁদপুরের অনলাইনের মাধ্যমে এসব ডিম চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা কিনে নেন। তারপর ভারত, সৌদি আরব, দুবাইসহ কয়েকটি দেশে রফতানি করেন।

এদিকে বক্সের ইলিশের ডিম দেশের বিভিন্ন জেলায়ও বিক্রি হয়। কেজিপ্রতি এসব ডিম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা।

শেরপুর থেকে আসা নোনা ইলিশ প্রক্রিয়াজাতকরণের শ্রমিক আলাল উদ্দিন ও আবদুল মালেক বলেন, প্রথমেই ইলিশের পেট থেকে ডিম আলাদা করে ফেলা হয়। এরপর মাছটি ফালি ফালি করে কেটে ভালোভাবে লবণ দেওয়া হয়। এভাবে রেখে দেওয়া হয় ৮ থেকে ১০ দিন। সবশেষ লবণমিশ্রিত পানির ড্রামে রেখে সংরক্ষণ করা হয়।

নোনা ইলিশ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিবছর ইলিশের মৌসুমে চাঁদপুরে আসি। এ সময়ে ইলিশের আমদানি ভালো হয়। ঘাটে আসা নরম পচা ইলিশ কিনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করি।

এভাবে সংরক্ষণ করে প্রায় এক বছর পরও এই ইলিশ বিক্রি করা যায়। যখন ইলিশের আমদানি কম থাকে, তখন নোনা ইলিশ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়। আর মৌসুমে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।

মূলত আমরা অমৌসুমে এসব নোনা ইলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকি। আর ইলিশের ডিমগুলো বক্সে করে অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করি।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, চাঁদপুর মাছঘাটে ইলিশের মৌসুমে হাজার হাজার মণ ইলিশ আমদানি হয়। ওই সময় কিছু মাছ নরম ও পচে যায়। আর সেই ইলিশ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা কিনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করেন।

তবে অন্যবারের তুলনায় এবার কিছুটা ইলিশের আমদানি কম। যে কারণে তেমন নোনা ইলিশ সংরক্ষণ করা হচ্ছে না।

নোনা ইলিশ বিদেশে রফতানি না হলেও এর ডিম বিদেশে রফতানি হয়ে থাকে। মূলত এখন দেশে ইলিশের ডিমের প্রচুর চাহিদা থাকায় বিদেশে রফতানি কম হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *