ক্রিকেটার থেকে তালেবান নেতা

এক সময় তার হাতে ছিলো ব্যাট-বল। কালের পরিক্রমায় এখন তুলে নিয়েছেন অস্ত্র, হয়েছেন তালেবানদের নেতা। বলছি সাবেক আফগান ক্রিকেটার আব্দুল্লাহ মাজারির কথা। তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পর আলোচনায় এসেছেন সাবেক বাঁহাতি আর্থডক্স স্পিনার।

মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়। মুনীর চৌধুরীর এই বিখ্যাত উক্তির যেন বাস্তব ছবি আব্দুল্লাহ মাজারি বছরখানেক আগেও ছিলেন পেশাদার ক্রিকেটার। আজ ক্ষমতা ফিরে পাওয়া তালেবানদের একজন। ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার খোরাক।

তবে আফগানিস্তানে খবরের শিরোনাম হয়েছেন প্রায়শই। কখনও ক্রিকেট, কখনও বা তাকে আলোচনায় রেখেছিলো তালেবানে যোগ দেয়ার খবর। জন্মভূমিতে ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা ফের কায়েম হবে, ফেসবুকে এমন ঘোষণা দিয়ে ক মাস আগেও এসেছিলেন স্পটলাইটে। যা আজ বাস্তব।

আশির দশকে আফগানিস্তানের মাজার ই শরিফে জন্ম নেয়া আব্দুল্লাহর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুটা চলতি শতাব্দির গোড়ার দিকে। টানা কয়েক মৌসুম খেলেছেন পাকিস্তানের কায়েদ এ আজম ট্রফিতে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তর শেষে শিয়াল কোটের হয়ে ২০০৯ সালে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে অভিষেক এই বাহাতি অর্থডক্স স্পিনারের।

সে বছরই ফেরেন জন্মভূমিতে। ২০১০ এ অভিষেক হয় আফগানিস্তানের হয়ে। তবে কেনিয়া সফরেই খেলে ফেলেন জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ। মাত্র দুই ওয়ানডের ক্যারিয়ারে নিয়েছেন দুই উইকেট।

তবে ঘরোয়া ক্যারিয়ার খুব একটা মন্দ নয়, মাজারির। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে ২১ ম্যাচে ৬৪, লিস্ট এ’তে ১৯ ম্যাচে ২৬ আর ১৩ টি টোয়েন্টিতে সমান সংখ্যক উইকেট আছে তার ঝুলিতে।

আছে, তিক্ত অভিজ্ঞতাও। ২০১৮ সালে আফগানিস্তানের ঘরোয়া টি টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে এক ওভারে ৬ ছক্কাসহ দেন ৩৭ রান।

শ্পাগিজা ক্রিকেট লিগে খেলেছেন ২০২০ মৌসুম পর্যন্ত। তবে গেলো আসরে কোন দল না পাওয়ায় পাকিস্তানে ফিরে যান মাজারি। ইসলামাবাদে শুরু করেন জমির ব্যবসা। একসময় জড়িয়ে পড়েন তালেবান রাজনীতিতে। ক্রিকেট মাঠে না পারলেও নতুন পরিচয়ে সফল আব্দুল্লাহ মাজারি। অন্তত এখনো পর্যন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *