মানিকের ঘরে নতুন স্ত্রী, ঘরের সামনে অনশনে ‘প্রবাসী স্ত্রী’!

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে প্রবাস ফেরত নারী সায়মা শারমিন নববিবাহিত মো. মানিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। মানিকও ওমান ফেরত।

মানিকের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ওমানে তারা পবিত্র কোরআন সাক্ষী করে বিয়ে করেন। সেখানে প্রায় দুই বছর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করেন।

কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে দেশে সম্প্রতি মানিক বিয়ে করেন। ২৬ জুন দেশে এসে সায়মা জানতে পারেন মানিক বিয়ে করেছে। এতে মঙ্গলবার (২৯ জুন) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে সায়মা উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামে মানিকের বাড়িতে অনশন করেন।

পরে রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) শিপন মোল্লা ঘটনার মীমাংসা হওয়া পর্যন্ত তাকে মানিকের ঘরে রেখে আসেন। আজ বুধবার দুপুরে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সায়মা ওই বাড়িতেই আছেন বলে তিনি নিজে জানিয়েছেন।

সায়মা শারমিন বলেন, মানিক আরেক বিয়ে করেছে। তার আরেক বউ আছে, তাতে আমার সমস্যা নেই। আমি মানিকের ঘরেই থাকবো। আমার ইজ্জতের মূল্য অনেক বেশি। আমি আমার অধিকার আদায় করে নেবো।

ইউপি সদস্য শিপন মোল্লা বলেন, অনশনকারী নারীকে প্রেমিকের ঘরে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি রাতে ওই ঘরেই অবস্থান করেছেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, মানিক উপজেলার দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামের হাকিম আবদুল মান্নানের ছেলে। সোমবার (২৮ জুন) রাতে মানিক, তার বাবা আবদুল মান্নান ও মা রাণী বেগমের বিরুদ্ধে সায়মা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সায়মা ঢাকার ফরিদাবাদের পশ্চিম জুরাইন তুলা বাগিচা এলাকার মো. রতনের মেয়ে। ২০১৫ সালের জানুয়ারি ওমানে পার্লারে চাকরির উদ্দেশ্যে সায়মা ওমান যান।অভিযোগ সূত্র জানা যায়, ওমানে যাওয়ার তিন মাস পর রং নম্বরে মানিকের সঙ্গে সায়মার কথা হয়। এর একবছর পর তাদের দেখা হয়। এতে বিভিন্ন সময় মানিক তাকে প্রলোভন দেখায়। পরে ২০১৯ সালে পবিত্র কোরআন সাক্ষী রেখে তারা বিয়ে করেন। মানিকের বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকায় রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। পরে মানিক তার কাগজপত্র ঠিক করা ও ব্যবসার কথা বলে সায়মার কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নেয়। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মানিক ওমান থেকে দেশে চলে আসে। এরমধ্যে চেষ্টা করেও কয়েকদিন মানিকের সঙ্গে সায়মা যোগাযোগ করতে পারেনি। পরে মানিক যোগাযোগ করে সৌদি যাওয়ার কথা বলে তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে। এতে মানিককে তিনি এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা দেওয়া। বাকি টাকা ঈদ-উল-আযহার পর দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তার বাবাও মানিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আসছে। এদিকে সম্প্রতি মানিক নিজ এলাকার একটি মেয়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২৬ জুন দেশে এসে বিষয়টি জানতে পেরে পরদিন মানিকের বাড়িতে সায়মা স্ত্রীর স্বীকৃতি চাইতে আসে। এসময় মানিক তার সকল সম্পর্ক অস্বীকার ও সায়মাকে মারধরের চেষ্টা করে।এ ঘটনায় কোনো উপায় না পেয়ে বিচারের দাবিতে মানিক ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে সায়মা রায়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপরই স্ত্রীর স্বীকৃতির জন্য মানিকের বাড়িতে গিয়ে তিনি অনশন করেন।তবে মানিকের পিতা হাকিম হাকিম আবদুল মান্নান বলেন, মেয়েটি ও তার অভিভাবকদের নিয়ে বসার প্রস্তুতি চলছে শিগগিরই বিষয়টি মীমাংসা করা হবে। এ ব্যাপারে রায়পুর থানার (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি মীমাংসা করা হবে বলে শুনেছি। এছাড়া আমাদের পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে। ঘটনাটির মতো মীমাংসা না হলে তদন্তের প্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *