লাদেনের উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি আর দাড়ি লম্বায় ৬ ফুট

বাপ-দাদার লম্বা দাড়ি দেখে ২০০২ সাল থেকে দাড়ি রাখেন মাহতাব উদ্দিন লাদেন। তার নিজের উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি আর দাড়ি ৬ ফুট লম্বা। তার ধারনা এত বড় দাড়ি বাংলাদেশে আর কারো নেই।

লম্বা দাড়ির কারণে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। হাসিখুশি ও সাদাসিধে মানুষ হওয়ায় সবাই তাকে পছন্দ করে।আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় দাড়ি রেখে দেন এই লালন ভক্ত।

মাহতাব উদ্দিন লাদেন দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের পাকুল্লা গ্রামের হারেজ আলী মণ্ডলের ছেলে। সে কৃষক পরিবারের সন্তান। গ্রামের পাঠশালায়

প্রাথমিক ও আমলা হাই স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। বর্তমানে কুষ্টিয়া শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে চাকরি করছেন তিনি।

কয়েক বছর আগে কুষ্টিয়াতে বসবাস করলেও তিনি এখন গ্রামের বাড়ি পাকুল্লায় বসবাস করেন। চাকরির পাশাপাশি কৃষি কাজ ও গরু পালন করেন। স্কুল জীবনে তিনি খুব ভালো খেলোয়াড় ছিলেন। ফুটবল, হাডুডু, ঝাঁপ ও দৌড়ের জন্যও তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। ১২ ভাই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের পিতা।

পাকুল্লা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, লাদেনের বাপ-দাদাদের লম্বা লম্বা দাড়ি ছিল। কিন্তু তার দাড়ি মাটির সমান, তাদের দাড়ির চেয়ে কয়েকগুণ বড়। তিনি লালন ভক্ত মানুষ। সাদাসিধে জীবন যাপন করেন বলে সবাই তাকে পছন্দ করে। তার দাড়ির মতো এত লম্বা দাড়ি দেখা যায় না। আমরা মনে করি তার দাড়ি বাংলাদেশে সবার চেয়ে বড়।

মাহতাব উদ্দিন লাদেন বলেন, আমি ২০০২ সালে আল্লাহর কাছে লম্বা দাড়ি চেয়েছিলাম। কারণ বাপ-দাদার দাড়ি ছিল নাভি পর্যন্ত। আমি তাদের চেয়ে বেশি বড় দাড়ির স্বপ্ন দেখতাম। আল্লাহ আমার স্বপ্ন পূরণ করেছে। আমার দাড়ির বয়স ১৯ বছর। মাটির সাথে মিশে যাওয়ার কারণে তিনবার তিন হাত দাড়ি কেটে ফেলেছি।

আমি ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি মানুষ, বর্তমানে আমার দাড়ি ৬ ফুট লম্বা। পাঁচ বছর পর পর দেড় ফুট করে তিনবার কেটে ফেলেছি। না কাটলে লম্বা দাড়ি মাটির সাথে গড়াগড়ি খায়।

না কাটলে আরো লম্বা হতো। পবিত্রতা রক্ষার জন্য কেটে ফেলেছি। তা না হলে মাটিতে পড়ে গুনাহ হতে পারে। আমার দাড়ি জট পাকানোও নয়। লম্বা, সোজা ও পরিচ্ছন্ন। চলাচলের সময় ধুলাবালি থেকে রক্ষা পেতে খোঁপার মতো দাড়ি বেঁধে রাখি।

তিনি আরো বলেন, আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় আমি বিভিন্ন জায়গায় যাই, বিভিন্ন মাজারে রওজা মোবারকের উদ্দেশ্যে যাই। ইচ্ছা আছে সারা বাংলাদেশের পীর আউলিয়াদের রওজা জিয়ারত করবো। হজে যাওয়ার নিয়ত আছে আল্লাহ কবুল করলে যাবো ইনশাআল্লাহ।

লাদেন বলেন, আমি একজন লালন ভক্ত মানুষ। লালনকে নিয়ে আমার ধ্যান-জ্ঞান। যারা লালন ভক্ত তারা সাধারণত কাজে যুক্ত হয় না। অতি সাধারণ জীবন যাপন করে,

মারামারি হানাহানি কোন কিছুর মধ্যে যায় না, সত্য ও সুপথে চলে। তাদের সাথে চলতে ভালো লাগে। এজন্য প্রায় প্রায়ই লালন সাইজির মাজারে যাই। সেখানে লালন ভক্তদের সঙ্গে ধর্ম, লালন ও জ্ঞান চর্চা করে থাকি। এখান থেকে যা শিখিয়ে সেই পথে চলার চেষ্টা করি।

এত লম্বা দাড়ি দেখে অনেকে অনেক ধরনের মন্তব্য করে। কেউ মন্দ বলে, কেউ ভালো বলে। তবে লাদেন অনেক হুজুরের কাছে শুনেছেন। তাদের কথানুযায়ী তার দাড়ি সুন্নতি। দাড়ির যত্ন করতে হয় অনেক। তেল মাখাতে হয়, শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়। কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখতে হয় যাতে দাড়ি না ছেড়ে।

তার স্ত্রী আশানুর বানু দাড়ির যথেষ্ট যত্ন করেন। সে বেনি করে দেয়, আঁচড়িয়ে দেয়, তেল মাখিয়ে দেয়। এক বছর পর পর দাড়িতে সুপার ভ্যাসমল তেল দেন। গোসলের সময় দাড়ির পেছনে একঘণ্টা সময় বেশি ব্যয় করা লাগে।

কারণ দাড়ি ছাড়ানো ও ধোয়া সময়ের ব্যাপার। এজন্য অনিয়মিতভাবে গোসল করেন না লাদেন। দাড়ি রাখার পর থেকে গত ১৯ বছর ধরে এই ভাবেই যাচ্ছে। তবে এখন বৃদ্ধ বয়সে আগের মত যত্ন করতে পারেন না। আস্তে-আস্তে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দাড়ি।

মাহতাব উদ্দিন লাদেন বলেন, আমার জীবন দশায় বহু মাজারে ঘুরেছি, দেশের বহু জায়গায় গিয়েছি, কিন্তু আমার মত এত লম্বা দাড়ি দেখিনি। অনেকের কাছে প্রশ্ন করেছি, তারাও দেখিনি এত লম্বা দাড়ি। বাইরে বের হলেই মানুষ সেলফি তোলে আমার সঙ্গে,

তারা আমার লম্বা দাড়ি দেখে অবাক হয়ে যায়। কোনদিন কেউ বলল না, এতো লম্বা দাড়ি দেখেছি। আমি বিভিন্নভাবে জানার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার মত এত লম্বা দাড়ি কাউর নাই। আমার জানা মতে, বাংলাদেশে আমার দাড়িই সবচেয়ে বেশি লম্বা।

ছেউড়িয়ায় লালন সাইজির মাজারে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, লম্বা দাড়িওয়ালা মানুষটির সাথে সবাই ছবি তুলছে। আমরাও তুলেছি। এত লম্বা দাড়িওয়ালা মানুষ আমরা কোনোদিন দেখিনি। সেজন্য তার সঙ্গে ছবি তুলেছি, বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের দেখাবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *