২৯ লাখ টাকার সেতুতে উঠতে হয় মই দিয়ে!

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বৈরাতীহাট সড়ক দিয়ে চলার পথে পড়বে একটি সেতু। একটু সামনে গেলেই পশ্চিমে হাজেরা-রাজ্জাক (এইচআর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রতিষ্ঠানটির ১০০ গজ উত্তর দিকে রয়েছে একটি খাল। এর দুপাশে কৃষিজমি। ওই খালের ওপর ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সেতুটি।

কিন্তু দূর থেকে সেতুটি দেখলে চমকে উঠবে মন! সংযোগ রাস্তা ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে এটি। দুপাশে দুট মই রাখা আছে। এই মই বেয়ে পার হতে হয় সবাইকে। কিন্তু বয়স্ক, নারী ও শিশুরা আছে বিপাকে। অনেকেই এটি পার হতে গিয়ে হয়েছেন আহত।

সেতুতে সাঁটানো ফলকে থাকা তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। এইচআর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে হয়বতপুরগামী রাস্তায় হয়বতপুর খালের ওপর এই ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৯ লাখ ২৭ হাজার ৪০১ টাকা। এটির দৈর্ঘ্য ৩৬ মিটার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মিত সেতুটির সঙ্গে সংযোগ রাস্তা না থাকায় তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বর্ষা মৌসুমে সেতুর কিছু অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। তখন সেতু পারাপারে চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। আর শুকনা মৌসুমে সেতুতে উঠতে মই ছাড়া উপায় নেই। উচুঁ রাস্তা না থাকায় এর দুপাশে থাকা দুটি মই-ই একমাত্র ভরসা।

তবে দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ রাস্তা না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে সেখানকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।সরেজমিনে দেখা গেছে, এইচআর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পথ ধরে কৃষিজমির পাশ দিয়ে সরু রাস্তা।

ওই পথ দিয়েই চলাচল করছে মানুষজন। আবার সেতুর উত্তর দিকে রয়েছে বসতবাড়ি, মসজিদ ও পুকুর। সেখানেও নেই মাটির সংযোগ রাস্তা। তাই দুপাশের মানুষের চলাচল করতে হয় এই সেতু দিয়ে। তবে মই বেয়ে সেতু পার বয়স্ক নারী-পুরুষদের জন্য কষ্টকর হওয়ায় তারা কৃষিজমির আইল ধরে যাতায়াত করেন।

স্থানীয় কৃষক শামছুল হক। সেতুর উত্তর পাশেই তার কৃষিজমি। আলাপকালে তিনি জানান, বয়স্ক নারী-পুরুষ ও শিশুরা মই বেয়ে সেতুতে উঠতে পারে না। এ পর্যন্ত অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেতু তৈরির হতে দুই বছরেরও বেশি সময় হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত চলাচল উপযোগী হয়ে ওঠেনি। তাহলে এত টাকা খরচ করে কার লাভ হলো?

এলাকার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মিয়া। তিনি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেখানে রাস্তা তৈরির জন্য মাটির খোঁজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজের দুপাশে রাস্তা নির্মাণের কাজ করা হবে।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোশফিকুর রহমান বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর দুই পাশের রাস্তায় মাটি ভরাট করে দেওয়া হবে।

মাটি না পাওয়ার কারণে দুই পাশে রাস্তা করতে দেরি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *