বন্যায় ভাসতে পারে ১০ জেলা

দেশের বেশ কয়েকটি নদীর পানি দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে বেশি। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ছয়টি নদীর পানি ১৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে দেশের উত্তর, উত্তর-মধ্যাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের ১০টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর অবস্থার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে যমুনা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উভয় নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে।

গঙ্গা নদীর পানি সমতল কমেছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। এই পানি বাড়ার ধারা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এমনকি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অপার মেঘনা অববাহিকার মনু ও খোয়াই ব্যতীত প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী এবং ফরিদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানায়, যমুনা নদীর আটটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে ফুলছড়ি পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার, বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার, সারিয়াকান্দি পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার, কাজিপুর পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার, সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৩৪
সেন্টিমিটার, পোড়াবাড়ি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার, মথুরা পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার ও আরিচা পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি বইছে।

এদিকে, পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।
ধলেশ্বরী নদীর এলাসিন পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানি ৩৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের স্টেশনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে মৌলভীবাজার স্টেশনে, ৯৩ মিলিমিটার।

এছাড়া মনু রেলওয়ে ব্রিজে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে উজানে ভারতের স্টেশনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে আইজলে, ২৫ মিলিমিটার। এছাড়া দার্জিলিংয়ে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *