মুক্তি চেয়ে মানবন্ধন করা সেই রাজ রিপাকে ‘ছোট বোন’ বানালেন পরীমণি

গত ৪ আগস্ট ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমণিকে বনানীর বাসা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর তিন ধাপে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় তাকে। অবশেষে ২৭ দিন কারাবাসের পর বুধবার (০১ সেপ্টেম্বর) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এ চিত্রনায়িকা।

এ যেন তার নবজন্ম! বাড়িতে ফেরার পর থেকেই তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন শত শত শুভাকাঙ্ক্ষী। সময়ের আলোচিত এই অভিনেত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন তারা।

জানা যায়, নায়িকা সত্তার বাইরে পরীমণি দিলখোলা মানুষ। এ কথা তার কাছের মানুষজন খুব ভালো করেই জানেন। যখন যেভাবে পেরেছেন, মানুষকে সহযোগিতা করেছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন।

কখনো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে ছুটে গেছেন, কখনো আবার এফডিসিতে কোরবানি দিয়ে অসহায় শিল্পী-কলাকুশলীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন।

সহশিল্পীদের মধ্যেও যারা পরীমণির ঘনিষ্ঠ, তাদের জন্য হৃদয় উজাড় করে দেন তিনি। সেই নজির দেখা গেল আবারও। তরুণ নায়িকা রাজ রিপাকে নিজের পায়ের সোনার পায়েল দিয়ে দিলেন পরী।

রাজরীপা মুক্তি নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করছেন। এ ছাড়া তাকে দেখা গেছে দহন সিনেমায়। পরীমণি গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে যাবার পর যখন অনেকে কাছের মানুষ দূরে সরে গেছে, ঠিক সেই দুঃসময়ে রাজধানীর শাহবাগে এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পরীমণির মুক্তি চান নবাগত চিত্রনায়িকা রাজ রিপা।

সেদিন ২১ আগস্ট বিকালে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে রাজ রিপা নজর২৪ কে বলেছিলেন, ‘পরীমণি তেমন কোনো অন্যায় করেনি, যার কারণে তাকে এভাবে ধরে আটকে রাখতে হবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, পরীমণিকে যেন মুক্তি দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। একজন পরীমণি তৈরি হতে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে তাকে, যা সবাই পারে না। আমার প্রত্যাশা সে যেন দ্রুত আমাদের মাঝে ফিরে আসে।’

এছাড়া এদিন মানববন্ধনে পরীমনিকে বড় বোন বলেও সম্বোধন করেন রাজরীপা।এদিকে টানা ২৭ দিন মুক্তি পেয়ে বনানীর বাসায় ফেরার পর পরীমনির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন অনেকেই। আগ্রহ নিয়ে বনানীর সেই বাসায় যান রাজ রিপাও। সেখানে পরীমণির ভালোবাসা ও আপ্যায়নে মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানালেন তিনি।

একটি গণমাধ্যমের কাছে রাজ রিপা বলেন, ‘পরীমনি আপুকে আমি আগে শুধু নামে চিনতাম। তার সঙ্গে আমার কখনও সামনাসামনি দেখা হয়নি। আমার খুব ইচ্ছা ছিল, তাকে আমি সামনাসামনি অভিনন্দন জানাব বা শুভেচ্ছা জানাব।’

রাজরীপা বলেন, ‘একটা মানুষ এত সুইট হয় কীভাবে! তার কথা, আপ্যায়ন থেকে শুরু করে, আমি তার বাসায় গিয়েছি, তিনি আমাকে যেভাবে সম্মান জানালেন, আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি।’

রাজরীপা বলেন, “পরীমনি আপু বললেন, ‘আপি ডাকটা তুই খুব মন থেকে ডাকিস। তুই আমার ছোট বোন।’ এই বলে সে তার দুই পায়ে সোনার যে পায়েল পরা ছিল, তার একটি খুলে আমার পায়ে পরিয়ে দিলেন। বলতে পারেন আমাকে ছোট বোন বলে স্বীকৃতি দিলেন।’’

তিনি বলেন, আমি বড় বোন ডেকেছি সে ডাক আমার ব্যর্থ হয়নি। “মুক্তি” সিনেমায় আমাকে একজন ফাইটার গার্ল হিসেবে দেখা যাবে। কিন্তু মুক্তিতে আমি শুধু স্ক্রিনে ফাইটার গার্ল মুক্তি, কিন্তু বাস্তবেও আমি মুক্তির প্রতিচ্ছবি দেখি পরীমনি আপুর মাঝে।বাস্তবে পরীমনিই মুক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *