দেশের প্রথম নায়িকার সন্তানের জীবন চলছে ভিক্ষার টাকায়

জীবনের শেষ দিনগুলো ভীষণ অভাব অনটনের মধ্যে পার করেছেন বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশের অভিনেত্রী বিলকিস বারী।

জীবনের শেষের দিনগুলোতে সংসার চালাতে তাকে হাত পাততে হয়েছে মানুষের দারে দারে। তিনি মারা যাবার পর তার মেয়ে ভুলু বারীরও জীবন কাটছে মানুষের কাছে হাত পেতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)-এর কাছাকাছি এলাকায় একটি ভাঙা ঘরে থাকেন ভুলু বারী।

প্রতিদিন সকালে প্রিয় প্রাঙ্গণ এফডিসি’তে আসেন তিনি। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেন।তাদের কাছে নিজের খরচের টাকা যোগাড় করতে হাত পাতেন। কেউ দেন পাঁচ, দশ টাকা, কেউ আবার দেন না।

এই করে দিনে একশ’ থেকে বড়জোড় দুইশ টাকা জোগাড় করে বাসায় ফিরেন ভুলু বারী। সেই টাকায় সংসার চলে দেশের প্রথম নায়িকার মেয়ের জীবন।

বাড়ি ফিরে আবার আশায় বুক বাঁধেন। হয়তো কেউ একজন এসে খোঁজ নেবে, আর্থিক সহায়তা দিতে পাশে দাঁড়াবে বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্রের নায়িকা’র পরিবারের। কিন্তু দেখতে দেখেতে কেটে গেছে ৪৫ বছর। কেউ আসেনি খবর নিতে।

ভুলু বারী বলেন, ‘আমার মা খুব কষ্ট করে জীবন যাপন করেছে। মানুষের কাছে ভিক্ষা করে টাকা নিয়ে আইসা আমাদের বড় করছে। শেষ জীবনে সে ভিক্ষা করেই মারা গেছে। ’

সংবাদমাধ্যমের কাছে ভুলু বারী বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের প্রথম নায়িকার মেয়ে হয়ে আমার আজ এই অবস্থা! আমাকে শেখ হাসিনা (প্রধানমন্ত্রী) যেন কিছু সাহায্য করেন।’

উল্লেখ্য, বাংলার প্রথম চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশে অভিনয় করেছেন বিলকিস বারী। এরপর ‘শ্রাবন মেঘের দিনে’, ‘এখন অনেক রাত’ সহ প্রায় চারশর অধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের (তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) প্রথম স্থানীয়ভাবে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’। ১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি পরিচালনা করেন আব্দুল জব্বার খান। ইকবাল ফিল্মস্ এই ছবিটি অর্থায়ন ও চিত্রায়নে সহায়তা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *