আবেদনে থাকছে না সত্যায়ন প্রক্রিয়া

সরকারি চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি বিড়ম্বনার নাম ‘সত্যায়ন’। প্রার্থীর সনদগুলো সঠিক কিনা-মূলত এই প্রশ্ন থেকেই সত্যায়ন পদ্ধতিটি চলে আসছে।

কিন্তু এখন যেহেতু অনলাইনে সার্চ করলেই প্রার্থীর সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়, তাই গত ৫-৬ বছর ধরেই সত্যায়নের এই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া দাবি জানিয়েছে আসছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা।

অবশেষে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে সত্যায়ন করার যে বাধ্যবাধকতা ছিল সেটা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

কিছুদিনের মধ্যেই এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। আমরা যেহেতু ডিজিটালাইজেশনের যুগে প্রবেশ করেছি, তাই এই পদ্ধতি আর কার্যকর থাকতে পারে না।

আবেদন ফরমে সত্যায়ন করার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে সরকারের প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, মেয়র, বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিকে। কিন্তু প্রার্থীরা তাদের কাছে গেলে অনেক সময় সত্যায়ন করতে চান না, কারণ প্রার্থী তাদের পরিচিত কেউ নন।

এ অবস্থায় প্রার্থীরা অনেকেই সত্যায়নের সিল নকল করে কাজ চালিয়ে নেন। বিষয়টা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। কর্তৃপক্ষও জানে, অনেক প্রার্থীই এই কাজটা করে। অথচ এভাবে স্বাক্ষর নকল করাটা একটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে অবশেষে সত্যায়নের মতো এই এনালগ পদ্ধতিটি তুলে নিতে যাচ্ছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *