ইভ্যালি: বাবা-মায়ের মুক্তি চায় শিশু আয়ান

দেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামিমা নাসরিনের ঘরে রয়েছে একটি ছেলে সন্তান। নাম তাঁর রিহান জাফির আয়ান।

ছোট্ট শিশু আয়ান জন্মের পরে এই প্রথম এতদিন বাবা মাকে ছেড়ে দূরে আছেন। কারণ তাঁর বাবা-মা দুজনই অর্থ আত্মসাত, প্রতারণা ও চেক জালিয়াতির মামলায় কারাগারে আছেন।

এমন অবস্থায় আয়ান তাঁর বাবা মাকে মুক্তি দিয়ে ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেছেন। বাব মাকে ছাড়া থাকতে তাঁর খুব কষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

এদিকে পরিবার সূত্রে জানা যায়, আয়ান বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। সে মা-বাবা ছাড়া সবাইকে ভয় পায়, কারো সাথে কথা বলতে চায়না। যা আদালতকে জানিয়েছিল রাসেল-শামিমার আইনজীবি।

এদিকে একের পর এক মামলায় ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিনের জামিন প্রায় অনিশ্চিত। এমন অবস্থায় গ্রাহক ও মার্চেন্টরাও তাঁদের মুক্তির দাবিতে নানা কর্মসূচী পালন করছেন।

কোথাও কোথাও মুক্তি চেয়ে পোস্টার লাগাতেও দেখা যায়। এছাড়া ই-ক্যাবের কাছে স্মারালিপি দিয়ে মুক্তি দাবি করছে গ্রাহকরা।গ্রাহকরা বলছেন, আইনি জটিলতায় তাঁদের অর্থ ফেরত পাবার সম্ভাবনা কম। কারণ বিশেষজ্ঞরাও এমন মত দিয়েছেন।

এদিকে সোমবার (০৪ অক্টোবর) লেখক নিজুম মজুমদার এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, ইভ্যালি চেয়ারম্যান ও সি ই ও’র বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ জামিনযোগ্য। সুনির্দিষ্টভাবে আইনি দিক পর্যালোচনা করে এটা আমার অভিমত।

তিনি লিখেন, রাসেল ও নাসরিন দম্পত্তির একটি ৭/৮ বছরের পূত্র সন্তান রয়েছে যার সিভিয়ার অটিজম রয়েছে। এই শিশুটি মা-বাবা ছাড়া সবাইকে ভয় পায়, কারো সাথে কথা বলতে চায়না। গত ১০ টি দিন এই শিশুটি কিভাবে রয়েছে তা শুনলে যে কারো হৃদয় যন্ত্রণায় ভ’রে উঠবে।

নিজুম মজুমদার আরো বলেন, মিসেস নাসরিনকে খুব সহজেই জামিন দেয়া যেতে পারতো শুধু শিশুটির কথা মাথায় রেখে। এই ব্যাপারে আইনজীবি আদালতে বিশদ সাবমিশনও দিয়েছিলেন। আদালত এটি বিবেচনায় নেয়নি। অসম্ভব অসম্ভব শক্ত সিদ্ধান্তে গেছে আদালত। আদালতের প্রতি সমস্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, এই সিদ্ধান্ত অমানবিক।

তিনি বলেন, মিসেস নাসরিন পাসপোর্ট সারেন্ডার করবেন বলেছেন,আদালতের যা শর্ত সব মেনে নেবেন বলেও জানিয়েছেন। এর পরেও জামিন না দেয়াটা আমাদের বিষ্ময় জাগায় এবং একইসাথে নানাবিধ প্রশ্নেরও সামনে এনে দাঁড় করায়।

উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ইভ্যালি এমডি রাসেলের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযান শেষে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিন ও রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও সিইও রাসেল এবং তার স্ত্রী (প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান) শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় মামলা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *