সব টাওয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে রবি

দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপা’রেটর রবি আজিয়াটা তা’দের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়া’র বি’ক্রি করে দিচ্ছে। রবির হাতে এখন ২ হাজার ৪৭০টি টাওয়ার রয়েছে। এগু’লো বিক্রির জ’ন্য তারা আলোচনা চূড়ান্ত ক’রার পথে রয়েছে।

রবি সূত্র জানিয়েছে, মোবাইল অপারেটর’দের মধ্যে ভাগা’ভাগি করে টাওয়ার ব্যবহার, টাওয়ার সামলা’নোর খরচ কমানো ও এক’কালীন আয়ের সুযোগ তৈরির জন্যই তারা সব টাও’য়ার বিক্রি করে দিতে চায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবির চিফ করপো’রেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আল’মত বলেন, বাংলাদেশের বর্ত’মান বাস্তবতায় মোবাইল অপারেটরদের বিনিয়োগ সুরক্ষায় টাওয়ার ভা’গাভাগির কোনো বিকল্প নেই।

এ ক্ষেত্রে র’বি অনেক আগে থেকেই উ’দ্যাগ নিয়ে কাজ করে আসছে। তিনি বলেন, ‘ভাগাভাগির মাধ্যমে টা’ওয়ার ব্যবস্থাপনার খরচ ও সংখ্যা ক’মিয়ে এনে সর্বোচ্চ ব্যবহার নি’শ্চিত করতেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

দেশে এখন চারটি মোবা’ইল অপারেটর রয়েছে—গ্রামীণ’ফোন, রবি, বাংলালিঙ্ক ও টেলি’টক। এক সময় এই অপারেটরগু’লো নিজেরা মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিচালনার জন্য টাও’য়ার বসাতো। ২০১৮ সালের নভেম্বরে বাং’লাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ ক’মিশন (বিটিআরসি) চারটি টাওয়ার কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়।

মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা’পনার জন্য এলাকাভিত্তিক বেজ ট্রান্সসিভার স্টেশন বা বিটিএস বসানো হয়, যা মোবাইল টাওয়ার নামে পরিচিত। ইডটকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমি’টেড, সামিট টাওয়ারস লিমি’টেড, কীর্তনখোলা টাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড ও এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড—এই চার প্রতিষ্ঠান এখন টাওয়ার বসানো ও পরিচা’লনা করছে। বিটিআ’রসির নীতিমালায় বলা হয়েছে, মোবাইল অপারেটরগুলো আর কোনো টাওয়ার বসাতে পারবে না। তবে তা’দের হাতে পুরোনো টাও’য়ারগুলো থাকতে পারবে।

টাওয়ার কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়ার যুক্তি হিসেবে ২০১৮ সালে বিটিআরসি বলেছিল, ভাগাভাগি ক’রে ব্যবহার নিশ্চিত করতেই টাওয়ার কোম্পানি গঠনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে টা’ওয়ার বসাতে মো’বাইল অপারেটরগুলোর বিপুল বিনি’য়োগ প্রয়োজন হবে না। টাওয়ারের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা ভূমি, বিদ্যু’তের ব্যবহার ও পরি’বেশের ওপর বিরূ’প প্রভাব ফেলে। ধরা যাক, গ্রা’মের একটি এলাকায় চারটি কোম্পানি জমি কিনে চারটি টাওয়ার বসালো। এর বদলে এ’কটি টাওয়ার বসিয়ে সবাই মিলে ভা’গাভাগি জমি নষ্ট ক’ম হয়। আবার বিনিয়োগও কম লাগে।

বিটিআরসির নীতিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম বছ’রে কো’ম্পানিগুলো দেশের সব বিভাগীয় শহরে সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে। দ্বিতীয় বছরে জেলা শহর, তৃতীয় বছরে ৩০ শতাংশ উপজেলা, চতুর্থ ব’ছর ৬০ শতাংশ উপজেলা ও পঞ্চম বছরে দেশের সব উপজেলায় টাওয়ার বসাতে হবে। অ’বশ্য সেবা পর্যায়ে চুক্তি বা সার্ভিস লেভেল অ্যাগ্রি’মেন্ট নিয়ে জটিলতায় নতুন টাওয়ার স্থাপন ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে মোটামুটি দুই বছর থ’মকে ছিল। গত নভেম্বরে জটিলতা কাটে। মো’বাইল অপারেটরদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন টাওয়ার স্থাপন শুরু করে টাওয়ার কোম্পানিগুলো। এর আগে থেকেই মো’বাইল অপারেটরগুলো তাদে’র হাতে থাকা টাওয়ার বিক্রি করে দেবে বলে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।

রবি এর আগে ২০১৫ সালে ইডটকো না’মের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের ৫ হাজা’র ২৫৮টি টাওয়ার বিক্রি করে দেয়। এ প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা রয়েছে রবির মালিক প্রতিষ্ঠান মাল’য়েশিয়ার আজিয়া’টা বারহাদের হাতে। টাওয়ার বিক্রি করে র’বি পায় ২৫ কোটি ডলার, যা বর্তমানে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, টাও’য়ার ভাগাভাগি করে ব্যবহারের জন্য বিটিআরসি যে উ’দ্যোগ নিয়েছিল, তা এখনো সফ’ল হয়নি। এখন দেশে ২৫ হাজারের মতো টাওয়ার মোবা’ইল অপারেটরগুলোর হাতে আ’ছে। তার ১৫ শতাংশের মতো ভাগাভাগি হয়। অপারে’টরগুলো নিজেরা চাইলে নিজেদের টাওয়ার অন্য অপারেটর’কে ব্যবহার করতে দিতে পারে।

দেশে গ্রাহক সংখ্যার তুলনায় টা’ওয়ার সংখ্যাও কম বলে টেলিযোগাযোগ সংশ্লিষ্ট ব্য’ক্তিরা মনে করেন। তারা বলছেন, সব মিলিয়ে সেবার মান উন্নত নয়।

জানতে চাইলে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের সাবেক মহাসচিব টি আই এম নু’রুল কবির বলেন, মোবাইল সেবায় সমন্বিত লাইসেন্স দরকার ছিল। তার বদলে সেবা ব্যবস্থায় একে’ক অংশের আলাদা আলাদা লাইসেন্সের কারণে মানসম্মত সে’বা নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি বলেন, এখন দরকার সংশ্লিষ্ট নীতিমা’লাগুলো পুর্নমূল্যায়ণ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.