দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নৌকার প্রার্থীরা

টাঙ্গাইলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে অনেকে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে নৌকার প্রার্থীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

ইতোমধ্যে দল থেকেও বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এ অবস্থায় সতন্ত্র নামে প্রার্থী থাকা বিএনপির নেতারা সুবিধা নিচ্ছেন। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ১১ নভেম্বর ২য় ধাপে

টাঙ্গাইলের ৩টি উপজেলার ১৯টি ইউনয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ধনবাড়ী উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নে

এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। বাকি ১৫টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায় ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যের প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা শেষ হয়েছে। এর আগে পোস্টার,

ব্যানার ও লিফলেটে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকায়। তারা ভোটরদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা এবং বৈঠক করেছেন। দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ভোটাররা তাদের পছন্দ মতো প্রার্থীদের ভোট দিতে আগ্রহী। নৌকা ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে বিরাজ করে উত্তেজনা।

ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর ফারুক আহমেদ ফরিদ বলেন আমাদের ৭ ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় যদুনাথপুরে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান ও বাণিয়াজানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ আলম তালুকদারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবুও বিদ্রোহীদের নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা আছে।

এদিকে সখিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত সিকদার জানান এখানে ৪টি ইউনিয়নে ৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা হচ্ছেন যাদবপুরে খন্দকার বজলুর রহমান, বহেড়াতৈলে গোলাম ফেরদৌস, বহুরিয়ায় নিরঞ্জন বিশ্বাস ও সরকার নূরে আলম মুক্তা, এবং কাকড়াজানে দুলাল হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার ফজলুল হক বলেন আমরা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন সদর ইউনিয়নে আবু তাহের বাবলু, ডুবাইলে রফিকুল ইসলাম, এলাসিনে মানিক রতন, লাউহাটীতে সহিদ উল্লাহ, দেউলীতে আতিকুর রহমান এবং আনিছুর রহমান। উপজেলা আওয়ামী লীগে সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক বলেন বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে যেসব পদধারী নেতারা কাজ করছেন তাদেরও দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ধনবাড়ীর বানিয়াজান ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ আলম তালুকদার বলেন আমি একাধিকবার দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে অজনপ্রিয় ব্যক্তিকে নৌকা দেওয়া হয়েছে। জনগণের অনুরোধ ও চাপে নির্বাচন করছি। কিন্তু নৌকার লোকজন আমার কর্মীদের সমর্থকদের ভয়ভীতি, মারধর ও বাড়িতে হামলা করছে। বিষয়টি নির্বাচন অফিসে জানিয়েছি। মানুষ ভোট দিতে পারলে আমিই চেয়ারম্যান হবো।

একাধিকবার ভোটার জানান তারা ভোট দিয়েই যোগ্য ও উন্নয়নমুখী ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে চান। তারজন্য নিরপেক্ষ পরিবেশের দাবি করেছেন।এদিকে বিএনপি এ স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নি। কিন্তু অনেক ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির নেতারা সতন্ত্র হয়ে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তারা কৌশলগত কারনে সুবিধায় আছেন।জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন। কেউ বিধি ভঙ্গ করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *