ঈদে বাড়ি ফিরতে বাস চান শিক্ষার্থীরা

পরীক্ষা দিতে এসে লকডাউনে আটকে পড়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। লকডাউনে দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকায় ঈদে বাড়ি ফিরতে ক্যাম্পাসের নিজস্ব বাস দাবি করেছেন তারা। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর ও পরিবহণ প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রমৈত্রী।

জানা যায়, হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা নেওয়া হবে এমন সিদ্ধান্তে মেসে সিট না পাওয়ার আশঙ্কায় ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শহরে অবস্থান শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তীতে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ও পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহে হঠাৎ করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৯ জুন একাডেমিক কাউন্সিলে ঈদের পর পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সারা দেশে চলমান লকডাউনে শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহণে বাড়ি ফেরার দাবি করেন ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে- চলমান লকডাউনে দূরপাল্লার সব গণপরিবহণ বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে নিজ বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে না পারার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বগতি হওয়ায় উক্ত অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে এবং পরিবারের সাথে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের ব্যবস্থা করতে দ্রুততম সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহণে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগীয় শহরে নিরাপদে পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহণ প্রশাসক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, পরিবহণ প্রশাসকের এখতিয়ার কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ। এর বাইরে ক্যাম্পাসের বাস পাঠালে ভিসি স্যারের অনুমতি লাগবে। ভিসি স্যার অনুমোদন দিলেই আমি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ভিসি স্যার নির্দেশ দিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে কতজন শিক্ষার্থী রয়েছেন তার পরিসংখ্যান বের করতে। কোন জেলায় কতজন শিক্ষার্থী আছে তা বের করতে পারলে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম গণমাধ্যমকে বলেন, স্মারকলিপি পেয়েছি। এটা নিয়ে আমি প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেছি কোথায় কতজন শিক্ষার্থী আছে একটা পরিসংখ্যান দিতে। শিক্ষার্থীদের পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে একটা পরিকল্পনা নিতে বলেছি প্রক্টরকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *