ফেলের হুমকি, ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দিতেন সেই শিক্ষক!

পরীক্ষায় ফেল করানোর হুমকি দিয়ে হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের অনেক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক আবু সালেহ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন চৌধুরী।

তবে ভয়ে এতদিন কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে রাজি হননি।

সবশেষ প্রতিষ্ঠানটির এক ছাত্রীর মামলায় ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে এলিট ফোর্স র‌্যাব। এরপরই বেরিয়ে আসে তার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কলেজের একাধিক সূত্র ঢাকা টাইমসকে জানিয়েছে, ওই শিক্ষক অনেক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন নির্যাতনমূলক ও অশালীন ভঙ্গিতে কথাবার্তা বলতেন।

আবার অনেককে পরীক্ষায় ফেল করানোর কথা বলে কুপ্রস্তাব দিতেন।

শিক্ষক হিসেবে তার এমন আচরণ কেউ পছন্দ করত না। কিন্তু কেউ ভয়ে মুখ খুলত না। তার এমন আচরণে ক্ষুব্ধ ছিলেন শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রীদের টার্গেট করেই তিনি এসব প্রস্তাব দিতেন। আগেও একাধিক বিদেশি ছাত্রীকে তিনি এমন প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিষয়টি শিক্ষার্থীরা জানতেন, কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করতেন না। কারণ কেউ কথা বলতে চাইলে তিনি পরীক্ষায় ফেল করানোর হুমকি দিতেন।

সবশেষ মঙ্গলবার ভুক্তভোগী ছাত্রী যে মামলা করেছেন, তার সঙ্গে ফেসবুকে একাধিকবার অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন গ্রেপ্তার এই শিক্ষক। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। আবার টোপ হিসেবে ওই ছাত্রীর অন্য বান্ধবীদের তার সঙ্গে সম্পর্ক করিয়ে দিতে বলেন। ওই ছাত্রীকে শিক্ষকের দেওয়া বেশ কিছু মেসেজের কপি এসেছে ঢাকা টাইমসের হাতে।

একটি মেসেজে ওই শিক্ষক লিখেছেন, ‘ঢাকায় এসে সময় দিস’। আরেকটি মেসেজে তিনি লিখেন, ‘প্রেমে পড়া বারণ, তাই প্রেমে পড়লাম না’। ‘ফিজিক্যাল বিমান্ড কীভাবে কি করিস?’ এমন অনেকে মেসেজ ওই ছাত্রীকে পাঠিয়েছেন তিনি।

এদিকে মেডিকেল কলেজটির এক ছাত্রী নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ডিএমপির রমনা থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলায় বুধবার সকালে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে ডা. আবু সালেহ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ২৩ তারিখ উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন ওই শিক্ষার্থী।

রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের জানান, যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবু সালেহ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন চৌধুরী এর আগেও একাধিক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর এবিষয়ে অস্বীকার করলেও তার (সালাউদ্দিন) কুপ্রস্তাবের বিষয়টি র‌্যাবকে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী ওই ছাত্রী। যেহেতু মামলাটি পুলিশের একজন কর্মকর্তা তদন্ত করবেন, সেহেতু তিনি এসব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবেন।

র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে র‌্যাব নারী ও শিশু অধিকার রক্ষার্থে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। র‌্যাবের অভিযানে এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত ২৯১ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে ২৭৬ ভিকটিম। যেখানে নারীর অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে সেখানে র‌্যাব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বরাতে কমান্ডার মঈন বলেন, গত বছরের জানুয়ারিতে ওই ছাত্রীকে অভিযুক্ত তার বাসায় গিয়ে পড়তে বলেন। কিন্তু তিনি তাতে অসম্মতি জানান। এরপর করোনা মহামারির কারণে মেডিকেল কলেজ বন্ধ থাকায় অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিলে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীর ফেসবুকে যোগাযোগ করেন এবং বিভিন্নভাবে তাকে অভিযুক্তের সঙ্গে কলেজ ও বাসায় দেখা করতে বলেন। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া না পেয়ে ওই শিক্ষক প্রায় কলেজে অনৈতিক এবং অপ্রাসঙ্গিক প্রস্তাব দিতেন। অন্যথায় তাকে ক্ষতি করা হবে বলে হুমকি দেন। ওই ছাত্রী কলেজে গেলে ক্লাসের বিভিন্ন সময় তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। সবশেষ ৬ নভেম্বর দুপুরে কলেজে তাকে একা পেয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। এতে তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। তাছাড়া ফেসবুকে অনৈতিক ও অশালীন মেসেজ পাঠাতে থাকেন। এরপর গতকাল তিনি মামলা করেন, সেই মামলায় ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে রাতে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমরা এখনো গ্রেপ্তার অভিযুক্ত শিক্ষককে বুঝে পাইনি। র‌্যাব আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হবে। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদে রিমান্ড আবেদন করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *