ওসি প্রদীপের প্রিজন ভ্যানে ঢিল, মুচলেকায় ছাড়া পেলেন যুবক

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর প্রিজন ভ্যানে ঢিল মারায় আব্দুল বারেক টিপুকে (৩২) আটক করে পুলিশ।

অবশ্য আটকের ঘণ্টা দুয়েক পর তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল বারেক টিপু কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার ডুলাহাজারা এলাকার আবু তাহেরের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ডের খবরে আদালত চত্বরে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

এ সময় ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ আসামিদের প্রিজন ভ্যানে করে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রিজন ভ্যানের দিকে টিপু ঢিল ছুঁড়ে মারে।

এদিকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলীর ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, রুবেল ও সাগরসহ ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ৬ আসামি হলো- বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, বরখাস্ত কনস্টেবল সাগর দেব, প্রদীপের দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন। এদের মধ্যে (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিতকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- এপিবিএনের বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান, বরখাস্ত কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, বরখাস্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, বরখাস্ত কনস্টেবল শাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন।

এর আগে দুপুর ২ টার দিকে মামলার ১৫ আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালত চত্বরে আনা হয়। ২টা ২৫ মিনিটে এজলাসে এসে আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর মামলা সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করেন বিচারক। এরপর শুরু করেন অপরাধের পর্যবেক্ষণ বয়ান। সাক্ষ্য প্রমাণে কার কী অপরাধ দাঁড়িয়েছে সেসব তুলে ধরার পর হত্যায় সংশ্লিষ্টতার অপরাধ অনুসারে সাজা ঘোষণাকালে প্রধান দুই অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.