প্রদীপের শাস্তি হোক, পরিবার কেন হেয় হবেঃ বলছেন ভাই

বহুল আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার

দাশ ও পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। আজ সোমবার কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈল এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিকে, সিনহা হত্যায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপের গ্রামের বাড়িতে চলছে সুনসান নীরবতা। রায় শুনেও প্রতিক্রিয়া নেই গ্রামবাসীর। তবে পরিবারের দাবি, সংখ্যালঘু হওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের।

প্রদীপের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর উপজেলার সারোয়তলী ইউনিয়নের উত্তর কঞ্জুরী গ্রামে।

প্রদীপের বাবা মৃত হরেন্দ্র লাল দাশ। প্রদীপের দুই সন্তানসহ স্ত্রী বাস করেন চট্টগ্রাম নগরীর ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার একটি বাসায়। কর্মসূত্রে প্রদীপ টেকনাফে বাস করতেন। মাঝেমধ্যে নগরীতে আসতেন।

আজ সোমবার সিনহা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার আগে প্রদীপের গ্রামের মানুষের মধ্যে ছিল উৎকণ্ঠা। রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে টিভির সামনে বসেছিলেন অনেকে।

একই সঙ্গে এসআই লিয়াকতের শশুড় বাড়ি বোয়ালখালীর পোপাদিয়া ইউনিয়নের আকুবদন্ডী গ্রামে হওয়ার সুবাদে মামলার রায় নিয়ে মানুষের আগ্রহে নতুন মাত্রা যোগ করে।

তবে মামলার রায় এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। সংখ্যালঘু হওয়ার খেসারত গুনছেন বলে দাবি প্রদীপের বড় ভাই রণজিত দাশের।

ওসি প্রদীপের কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী তাদের ভালো চোখে দেখছেন না জানিয়ে রণজিত দাশ বলেন, ‘কারো একার অপরাধের দায় তো সবাই নিতে পারে না। তবুও আত্মীয় স্বজন সবার কাছে হেয়প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে আমাদের। ‘

তিনি আরো বলেন, ‘অপরাধ করলে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। ‘ টিভিতে রণজিত দাশ আলোচিত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যা মামলার রায় দেখেছেন।

প্রদীপের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া একটি মন্দিরের উৎসব হবে আগামীকাল (মঙ্গলবার)। সে উপলক্ষে প্রদীপদের উঠানে করা হয়েছে প্যান্ডেল। যদিও রায়ের পর সুনসান নীরবতা আর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করতে দেখা গেছে প্রদীপের গ্রামের বাড়িতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.