চট্রগ্রামে ভাঙা হবে ২২৩ কোটি টাকায় কেনা জাহাজ!

কোপা আমেরিকায় যে মাঠে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলা হবে জাহাজটি আয়তনে তার তিনটি মাঠের সমান অর্থাৎ ১৯ হাজার বর্গমিটার সৌদি আরবের ২৫ বছরের পরিত্যাক্ত তেল পরিবহনকারী একটি পুরোনো জাহাজ ভাঙার জন্য আমদানি করা হয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা কারখানায়।

পুরোনো হলেও এর জন্য খরচ করতে হয়েছে ২২৩ কোটি টাকা। যদিও গত এক দশকে এত দামে পুরোনো কোনো জাহাজ আমদানির রেকর্ড নেই বলে শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের তথ্যে উঠে এসেছে।

জাহাজটি লম্বায় ৯৭ তলা উঁচু ভবনের মতো অর্থাৎ ৩৪০ মিটার। আর আয়তনে কোপা আমেরিকায় যে মাঠে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলা হবে সেটির মতো তিনটি মাঠেরসমান অর্থাৎ ১৯ হাজার বর্গমিটার।

চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের পারিবারিক শিল্পগ্রুপ মোস্তফা হাকিম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এইচ এম শিপব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড জাহাজটি ক্রয় করেছে। এ বছর এখন পর্যন্ত বিশ্বে এই ধরনের পুরোনো জাহাজ বিক্রি হয়েছে মাত্র ১১টি। তারা জাহাজটির আমদানির জন্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ২০৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা দিয়েছে। আর শুল্ককর দিতে হয়েছে ১৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

এতো দাম দিয়ে জাহাজটি কেনা হলেও এটি কেটেকুটে যে লোহা এবং অন্যান্য দ্রব্যাদি পাওয়া যাবে তা বিক্রি করেই পুরো খরচ ওঠানো হবে। খরচের চেয়ে বাড়তি যা পাওয়া যাবে, তা উঠবে লাভের খাতায়। এই জাহাজটি কেটে ৪৮ হাজার ৮৭ টন লোহা পাওয়া যাবে। এ ধরনের পরিত্যাক্ত পুরোনো জাহাজগুলো মূলত লোহার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে ক্রয় বিক্রয় হয়।

এর আগে লোহার দাম কম থাকায় একই ধরনের জাহাজ তারা ১৮০ কোটি টাকায় কিনেছিল। বর্তমানে বিশ্ববাজারে লোহার দাম বেশি হওয়া ৪৩ কোটি টাকা বাড়তি খরচ করতে হয়েছে। এইচ এম শিপইয়ার্ডের ৫০০ কর্মী জাহাজটি ভাঙার কাজ শুরু করেছে। তারা ৯ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে বিশাল এ জাহাজ ভাঙার কাজ শেষ করতে চায়।

পুরোনো জাহাজটির পেছনে আছে প্রায় ৭৩ টন ওজনের প্রপেলার বা পাখা। এই প্রপেলার চালানোর জন্য আছে ৩৩ হাজার ৬০০ অশ্বশক্তির (বিএইচপি) ইঞ্জিন। ইঞ্জিনটি প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ৭০ বার ঘোরাতে পারে এই প্রপেলার।

পুরোনো এই প্রপেলারের এখনো বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। ইঞ্জিন ব্যবহার করা না গেলেও কেটেকুটে বিক্রি করা যাবে বেশ ভালো দামে। আবার ইঞ্জিন চালানোর জন্য আছে পাঁচটি জেনারেটর। সেগুলো হয়তো জেনারেটর হিসেবেই বিক্রি করা যাবে। এ রকম মূল্যবান নানা পণ্য আছে জাহাজটিতে।

মোস্তফা হাকিম গ্রুপের পরিচালক মো. সারোয়ার আলম জানা, কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে এ বছর চালু হওয়া এইচ এম স্টিল এবং সীতাকুণ্ডের গোল্ডেন ইস্পাত—আমাদের এ দুটি কারখানায় এই জাহাজের গলনশীল লোহা ব্যবহার হবে।

বাকি পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি তামা, পিতল, কপারের মতো বেশ কিছু মূল্যবান পণ্য রপ্তানি করা হবে।উল্লেখ্য, এ ধরনের নতুন জাহাজের দাম এখন প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডলার বা ৮০০ কোটি টাকার কমবেশি। আবার এ ধরনের জাহাজের প্রতিদিনের ভাড়া ৩৬ হাজার ডলার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *