ট্রাক ড্রাইভার থেকে ১০০০ কোটি টাকার শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল খালেক পাঠান!

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা কেয়া কসমেটিকস এর মালিক আব্দুল খালেক পাঠান। জীবন শুরু করেছিলেন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চকলেট আর বিস্কুট বিক্রির মধ্য দিয়ে। তারপর ট্রাক ড্রাইভার।

তিনি যখন স্কুলে পড়েন তখন টিফিনের জমানো টাকায় তিনি চকলেট বিস্কুট এগুলো কিনতেন। তারপর রাস্তার পাশে দোকান সাজিয়ে বসতেন এবং বিক্রি করতে। তার কিছু লাভ হতো এবং সেই লাভের লোভে তিনি পড়ে গেলেন।

বন্ধুর সঙ্গে শুরু করলেন মুরগির ব্যবসা। স্থানীয় হাট থেকে মুরগি কিনে নিয়ে দূরের বাজারে বিক্রি করত। যৌথ কারবার থেকে লাভের টাকা খরচ করতেন না ফলে মূলধন বাড়তে লাগলো।

মুরগির ব্যবসার ব্যাপারটা তার পরিবারের কেউই পছন্দ করতেন না। তাই মুরগি কিনে তিনি রাখতেন তার বন্ধুর বাসায়। একদিন তার বন্ধু বলল মুরগিগুলো শিয়ালের নিয়ে গেছে।

মুরগির কিছু পাখনা আর মায়া কান্না দিয়ে তার বন্ধু তাকে ভোলানোর চেষ্টা করল কিন্তু তার বুঝতে বাকি রইল না। সে বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ল। তিনি ভাবলেন আমি বুঝি আর ব্যবসায়ী হতে পারবোনা।

এর কিছুদিন পরে তিনি তার নানা বাড়িতে গেলেন এবং কিছু টাকা জোগাড় করলেন, নতুন উদ্যমে আবার শুরু করলেন ব্যবসা এবার আর কোন পার্টনার নয় একাই ব্যবসা শুরু করলেন।

পরবর্তীতে তিনি ১৯৭৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন এরপর এই বিয়ে। তার স্ত্রী তার জমানো ৬০০ টাকা তার হাতে তুলে দিলেন আর এই টাকায় আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখলেন।

তিনি শুরু করলেন লাকড়ি কিনে বিক্রির ব্যবসা। এরপর তার স্ত্রী তার কিছু গয়না গাটি ও তার হাতে তুলে দিল সেটি বিক্রি করে ফেলেন পেলেন ৫০০০ টাকা।একটা পুকুর লিজ নিয়ে রুই মাছের পোনা ছাড়লেন কিন্তু মাছ বড় হতে সময় লাগবে কমপক্ষে তিন বছর। তিনি ধৈর্য ধরে থাকতে পারলেন না সুতরাং এক বছরের মাথায় সব বিক্রি করে দিল। আবার শুরু করলেন লাকড়ির ব্যবসা এরপর তিনি একটি চাকরি নিলেন বেতন ৬০০ টাকা কিন্তু বেশিদিন সেখানে তিনি কাজ করতে পারলেন না। মাথায় তার কেবল ব্যবসার পোকা, অনেক টাকার স্বপ্ন।

চাকরি ছেড়ে তিনি প্রগতি থেকে একটা ট্রাক কিনলেন ৪০ হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করে। ড্রাইভার রাখলেন তাঁর সঙ্গে থেকে ট্রাক চালানো শিখে ফেলবেন ১৫ দিনেই, মোটামুটি ট্রাক চালানো শেখা হয়ে গেলে এবার পথে নামার পালা। ড্রাইভার দিনে ডিউটি করে আর রাতে তিনি নিজেই ট্রাক চালান। এভাবে ছয় মাসছয় মাসেই তিনি একটি মোটা পুঁজি বানিয়ে ফেললেন এবং সেটি রাখতেন পূবালী ব্যাংক।।

……………………………

একদিন ব্যাংকের অফিসার বললেন ইটের ভাটা বানান প্রয়োজনে আমরা ঋণ দেব। তিনি জমি কিনে ফেললেন, এবার ব্যাংক বেঁকে বসল ঋণ দিবেন না। তিনি পড়লেন মহা বিপদে। এরপর তার শ্বশুর তাকে সহযোগিতা করলেন। দুই লাখ টাকার ঋণ দিলেন, পরের বছর সোনালী ব্যাংক থেকে তিনি পেলেন তিন লাখ টাকা। এরপর ইটের ভাটা পাঁচটা হলো, এখন সেখানে বছরে প্রায় ২ কোটি টাকার ইট তৈরি হয়।
এরপর তিনি নিটিং ব্যবসায়ের পরিকল্পনা করলেন কিন্তু ব্যাংক ঋণ দেবে না। এজন্য একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বললেন আপনি মাত্র মেট্রিক পাস, ইটের ব্যবসা করছেন তাই করেন। নিটিং ব্যবসা ১০০ ভাগ রপ্তানি ব্যবসা, বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলতে হবে এটা আপনি পারবেন না।
….
তিনি বোঝাতে লাগলেন যে বিদেশ থেকে যে ক্রেতা আসবে সে মালের কোয়ালিটি দেখবে, আমি ইংরেজি জানি কিনা সেটা দেখবে না আর তাছাড়া ইংরেজি জানা লোক তো আমার থাকবেই কিন্তু বরফ গলল না। তিনি পরবর্তীতে ভারত থেকে আঠারোটা নিটিং মেশিন কিনে নিয়ে আসলেন এবং কাজ পুরোদমে শুরু করলেন।

……………………….

এক পর্যায়ে ব্যাংকের লোকজন বুঝলো যে ইংরেজি না জেনেও এ লাইনে কাজ করা যায়। সফল হওয়া যা এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সদয় হলেন, সবকিছু দেখে তাকে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা ঋণ দিলেন। তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন, তার ইন্ডাস্টি থেকে প্রতিবছর এখন রপ্তানি হয় ৪০ কোটি টাকার কাপড়। সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় তিন হাজার লোকের।
এরপর তিনি কসমেটিকস তৈরিতে শুরু করলেন কেয়া নারিকেল তেল দিয়ে, তারপর পাউডার। তিনি মনে করেন সততা ও পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই , সফলতা আসবেই। সবসময় মনে রাখতে হবে কখনো অন্যকে ঠকিয়ে বড় হওয়া যায় না। তিনি মনে করিয়ে দেন তার সেই মুরগি ব্যবসার বন্ধু কিন্তু এখনো কারখানার কর্মচারী রয়ে গেছেন।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *